Wednesday, January 24, 2018
Home > বিশেষ প্রতিবেদন > বেঁচে গিয়েছে বাংলা,গুজরাটে বেহাল ন্যানো!

বেঁচে গিয়েছে বাংলা,গুজরাটে বেহাল ন্যানো!


সৌম্য ভাদুড়ী:একসময়ে যে একলাখি গাড়ি নিয়ে মানুষের উৎসাহ ছিল তুঙ্গে, সেই ন্যানোর বাজার কি ক্রমশ কমছে? তথ্য মিলিয়ে দেখলে তাই মনে হওয়াই স্বাভাবিক। গত মার্চেই প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল, ওই মাসে ২০০-র কম ন্যানো গাড়ি বিক্রি করেছিল টাটা মোটর্স। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে দেখা গেছে, ন্যানো গাড়ির ক্রমহ্রাসমান চাহিদার কারণে বর্তমানে দিনে মাত্র ২টি করে ন্যানো উৎপাদন করছে টাটা মোটর্স।
ন্যানো কারখানার জন্যই টাটাদের ৩০ হাজার কোটি সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই টাকায় অনায়াসে কৃষক ঋণ মাফ করা যেত।’ গুজরাট নির্বাচন উপলক্ষে এক প্রচার সভা থেকে এই কটাক্ষ করেছিলেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী। কংগ্রেসের ভাবী সভাপতির উক্তি রাজনৈতিক হলেও বাস্তবে কিন্তু সত্যিই রাস্তায় ন্যানো গাড়ি খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

গত বছর নভেম্বর থেকে ১ বছরের রিপোর্টে দেখা গেছে, গত ডিসেম্বরে সবচেয়ে বেশি ন্যানো তৈরি করেছিল টাটা মোটর্স। ওই মাসে মোট ১০০৪টি ন্যানো তৈরি করা হয়েছিল। গুজরাটের সানন্দ প্ল্যান্টে ন্যানো গাড়ি তৈরির ওটাই শেষ ৪ ডিজিটের সংখ্যা। ঠিক পরের মাসেই অর্থাৎ ২০১৭-র জানুয়ারিতে সংখ্যাটি কমে দাঁড়ায় ৩৯১-তে। এবং মার্চে ১৭৬টি।
ব্যবসায়িক মন্দা চললেও ন্যানোর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমছে না। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে সিঙ্গুরের ন্যানো ফ্যাক্টরির বিরুদ্ধে আন্দোলন হামেশাই থাকবে। যখন, বিরোধী দলে থাকাকালীন বাম সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তীব্র আন্দোলন করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং পরবর্তী সময়ে নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে, সিঙ্গুর থেকে ন্যানো কারখানা গুজরাটে নিয়ে গিয়েছিলেন টাটারা।আর সেখানেই মুখ থুবড়ে পরল গুজরাটের ন্যানো কারখানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *